মোঃ এমদাদ হোসেন ভুঁইয়া, সিলেটঃ সিলেটে কলেজছাত্রী নিখোঁজের সাড়ে তিন মাস, বান্ধবী-পরিবার গা ঢাকা সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামে এক তরুণীর নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন হাবিবা জান্নাত তামান্না নামের ওই কলেজছাত্রী। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ হাবিবা জান্নাত তামান্না উত্তর আকাখাজানা গ্রামের দিনমজুর মৃত নিজাম উদ্দিনের মেয়ে। একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আব্দুল বাছিতের মেয়ে তাছলিমা জান্নাতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।
বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে আর ফেরেনি হাবিবা
পরিবারের অভিযোগ, গত ২২ জানুয়ারি সকাল বেলা তাছলিমার ফোন পেয়ে তার বাড়িতে যান হাবিবা। এরপর থেকে তাকে আর ফিরে পায়নি পরিবার। শুরুতে যোগাযোগ থাকলেও ১৫ মার্চের পর থেকে হাবিবার সঙ্গে পরিবার ও স্বজনদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হাবিবার স্বজনরা তাছলিমাদের বাড়িতে যান। কিন্তু তাছলিমা, তার মা ও ভাইবোনেরা আগেই বাড়ি ছেড়ে কোথায় যেন চলে গেছেন। তাদের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার কেউই কিছু জানে না।
গুমের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
নিখোঁজ তরুণীর বড় বোন রাহেলা আক্তার ২৬ জুন বিয়ানীবাজার থানায় লিখিত অভিযোগে তাছলিমা জান্নাত, তার মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে গুম করে কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
রাহেলা বলেন, “আমরা এতিম, সমাজে সহজ-সরল মানুষ হিসেবেই পরিচিত। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুতর মনে করিনি। কিন্তু এতদিনেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। স্থানীয় লোকজন অনেক সময় মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেছিল।”
স্থানীয়দের সহানুভূতি ও ব্যর্থ প্রচেষ্টা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাবিবার পরিবারের কাছ থেকে ঘটনা শুনে তাছলিমার চাচা জুনেল আহমদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হন। তাছলিমার প্রবাসী বাবা আব্দুল বাছিতের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার স্ত্রী-সন্তানদের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর পরও হাবিবার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছি।”
পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে
বিয়ানীবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মেয়েটিকে উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
