ফেনী-৩ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্ক

মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের আগেই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

by The Justice Bangla

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফেনী-৩ (দাগনভূঞা–সোনাগাজী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হতেই তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থীর দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের (Renunciation of U.S. Citizenship) জন্য আবেদন করেন। তবে আবেদনের মাত্র ২৬ দিনের মাথায়—২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত—নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল কার্যকর হয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) কর্তৃক Certificate of Loss of Nationality (CLN) ইস্যু হওয়ার মাধ্যমে। CLN ইস্যু না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবেই গণ্য হন।

বাংলাদেশ সংবিধানের Article 66(2)(c) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক হলে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। এছাড়া Representation of the People Order (RPO), 1972 অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীর সংবিধানগত যোগ্যতা নিশ্চিত করা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর দাখিল করা হলফনামা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত মতামত চাওয়া হলেও কোনো লিখিত মতামত পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেননি। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে এবং ফেনী জেলার পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত নিয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফেনী জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন জানান, এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেই।

আইনজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত প্রমাণ ছাড়া মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে তা আইনি পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, ফেনী-৩ আসনটি বরাবরই দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এবারের নির্বাচনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের মধ্যে ভোটের লড়াইকে হেভিওয়েট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

You may also like

Leave a Comment