সিলেট প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাগলা-বীরগাঁও সড়ক গেলো বছরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। অন্তত ২০টি স্থানে সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো কোনো অংশে অর্ধেকের বেশি রাস্তা ধসে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, আসছে বর্ষার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার না করলে হাওরের ঢেউয়ের আঘাতে পুরো সড়ক বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার থেকে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খালপাড় সেতু পর্যন্ত সড়ক পথের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। খালপাড় থেকে বীরগাঁও বাজার পর্যন্ত রয়েছে আরও আড়াই কিলোমিটার সড়ক। এই সড়ক দিয়েই পূর্ব ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পাগলা বাজার হয়ে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাগলা-বীরগাঁও সড়কের ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য নূরুল হকের বাড়ির সামনে থেকে ভাঙনের শুরু হয়েছে। ছোট ভাঙন দিয়ে শুরু হলেও পূর্ব বীরগাঁওয়ের বড়ভাঙা এলাকায় পৌঁছে ভাঙনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে আমান আলীর বাড়ির সামনের ভাঙন সবচেয়ে বড়। পুরো সড়কে ছোট-বড় মিলে প্রায় ২০টি ভাঙন রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৮টি ভাঙন বেশ বড়। এসব ভাঙনের কারণে যে কোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সড়কটির বেহাল দশা থেকে রক্ষার দাবিতে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
এলাকার সমাজকর্মী বাবরুল নাহিদ বলেন, “আমাদের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ এই সড়কের উপর নির্ভরশীল। বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। যদি আসছে বর্ষার আগেই সংস্কার না করা হয়, তাহলে পুরো সড়কটাই বিলীন হয়ে যাবে। তখন আমরা চরম দুর্ভোগে পড়বো।”
পরিবহন শ্রমিক নেতা ও নিয়মিত চালক ছৈয়দুর রহমান জানান, প্রতিদিন অন্তত দেড়শ’ সিএনজি এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। তিনি বলেন, “রাস্তাটির ভাঙা অংশে গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। অনেক জায়গায় অর্ধেকের বেশি রাস্তা ভেঙে গেছে।”
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় কাজ করার চাহিদা থাকলেও অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা চাই চার-পাঁচশ কোটি টাকা বরাদ্দ হোক। গেলো বাজেটে মাত্র ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। অনেক সড়কের সংস্কারের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে, তবে পাগলা-বীরগাঁও সড়কটি সে তালিকায় আপাতত নেই। আসছে বর্ষার আগেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও আমরা অনিশ্চয়তায় রয়েছি।”
এদিকে সড়কের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো মেরামত না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে পড়বে, যা দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।