বিশেষ প্রতিনিধি| চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম শহরের নতুন রেল স্টেশন সংলগ্ন ৭নং বাস পার্কিং এলাকা এখন পরিণত হয়েছে মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধচক্রের নিরাপদ আস্তানায়। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এ পথে চলাচল করলেও তারা নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়-আতঙ্কের মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাদক ব্যবসার কৌশল
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র বাসের ভেতর, সিটের নিচে, ফাঁকে-চিপায় এবং আশপাশের গাছের গোড়ায় ইয়াবা ও গাঁজা লুকিয়ে রাখে। পরে যাত্রী ওঠানামার ভিড়কে কাজে লাগিয়ে এসব মাদক হাতবদল করা হয়।

একজন দোকানদার বলেন,
প্রতিদিনই দেখি ছোট ছোট প্যাকেট বাসের ভেতর ঢুকানো বা বের করা হচ্ছে। লোকজন দেখেও কিছু বলে না, কারণ সবাই ভয়ে থাকে।
যাত্রীদের ভোগান্তি এই চক্রের কারণে যাত্রীরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এক নারী যাত্রী জানান, সন্ধ্যার পর এ এলাকায় নামতে খুব ভয় লাগে। এখানে ছিনতাইকারী ঝাপটি দিয়ে বসে থাকে সুযোগ পেলেই ছিনতাই করে পালিয়ে যান।
এক দিন মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডার পাশে দাঁড়ানোয় আমাকে অকারণে তল্লাশি করতে চেয়েছিল। প্রতিবাদ করলে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।
অপরাধ চক্রের আড্ডা
শুধু মাদক নয়, ওই এলাকায় নিয়মিতভাবে আড্ডা জমায় ছিনতাইকারী, মোবাইল চোর ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় দোকানিরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
পুলিশ মাঝে মাঝে আসে, কিন্তু পরে আবার একই অবস্থা হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে জায়গাটা পুরোপুরি অপরাধীদের দখলে যাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অভিযোগগুলো পেয়েছি। ইতোমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
অভিযোগকারীরা মনে করেন, এভাবে মাদক ও অপরাধচক্র সক্রিয় থাকলে পুরো পার্কিং এলাকা যাত্রীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে,
পার্কিং এলাকায় ২৪ ঘণ্টা কার্যকর সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ,
নিয়মিত পুলিশি টহল ও আকস্মিক অভিযান,
যাত্রী সহায়তা ডেস্ক স্থাপন,
কিশোর গ্যাং দমনে সামাজিক ও উদ্যোগ এসব পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সচেতন এলাকাবাসীর ভাষায়,
অভিযান শুধু দেখানোর জন্য নয়, স্থায়ী সমাধান চাই। না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না।
