নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত—৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি—তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি দেশবাসীকে শান্ত, সংযত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতির দিনে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুর সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শারমিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তার স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগামীকাল ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হতে পারে।
কারামুক্তির পর থেকে গুলশানের নিজ বাসভবনে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যকৃত, কিডনি, হৃদ্যন্ত্রসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তখন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন জানান, মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা পরে জটিল আকার ধারণ করে।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারাবাস ও পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
