সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটে সরকারি নিলামের নামে রাষ্ট্রের সম্পদ দিনের আলোয় ডাকাতি করা হয়েছে। বাজারে ঘনফুটপ্রতি ৭০–৭৫ টাকার বালু মাত্র ২ টাকায় বিক্রি করে সরকারের অন্তত ১৩ কোটি টাকা লোপাট করেছে যুবদল নেতা কয়েস আহমদের সিন্ডিকেট।
এ ঘটনা শুধু দুর্নীতি নয় এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ এবং আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার নির্মম উদাহরণ।
৯ জনের নিলামে ৮ জন উধাও সাজানো খেলা, আগেই ঠিক করা ছিল বিজয়ী।
২২ লাখ ঘনফুট বালুর নিলাম ডাকে ৯ জনের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও নিলামের দিন সেখানে হাজির ছিলেন মাত্র একজন সিন্ডিকেট প্রধান কয়েস আহমদ।
এটি নিলাম নয়, ছিল আগেই সাজানো একটি লুটের খেলা। বাকি ৮ জনকে ভয়, চাপ, প্রতিরোধ বা সিন্ডিকেটের প্রভাবে মাঠছাড়া করা হয়েছে এটাই এখন সবার মুখে মুখে।
৯.৫০ টাকা থেকে ২ টাকা দর কমানোর নামেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাটপারি প্রথম দফায় সর্বোচ্চ দর ছিল ৯ টাকা ৫০ পয়সা।
দ্বিতীয় দফায় কমিয়ে আনা হয় ৭.৬০ টাকা। পিছনের দরজায় সিন্ডিকেটের চাপে দর নামতে নামতে এসে দাঁড়ায় ২.৬৮ টাকা।
শেষে পুরো বালুকাণ্ডে দর থামল মাত্র ২ টাকায়।
এভাবে সরকারকে লুট করা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা, আর কয়েস সিন্ডিকেট দিয়েছে মাত্র ৩৮ লাখ টাকা যা বালুর বাজারদরের তুলনায় সরাসরি চুরি ছাড়া আর কিছুই নয়।
ওয়ার্ক অর্ডারের আড়ালে দ্বিতীয় দফা বালু ডাকাতির প্রস্তুতি নিলামে জেতার পর কয়েস সিন্ডিকেট ৬ মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছে।
এটি জব্দ বালু অপসারণের সময় নয় এটি আরও বড় লুটের সময়।
বালু ব্যবসায়ীরা বলছেন ওরা ওয়ার্ক অর্ডার পেলেই নিলামের দ্বিগুণ পরিমাণ বালু চুরি করবে। সরকারের ক্ষতি হবে আরও ৫০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ নিলাম ছিল প্রথম ধাপ, এখন শুরু হবে বালু উত্তোলনের নামে দ্বিতীয় দফা লুট।
কর্তৃপক্ষ মুখ বন্ধ ফোন ধরছে না কেউ, প্রশাসন জিম্মি।
কীভাবে একটি সরকারি নিলাম এভাবে লুট হয়ে গেল এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আদালতের নাজির ফাইজুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বারবার কল কেটে দিয়েছেন।
যুবদল নেতা কয়েস আহমদও ফোন ধরেননি, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
এই নীরবতা বুঝিয়ে দিয়েছে অপরাধীরা এতটাই শক্তিশালী যে কর্মকর্তারা মুখ খুলতেই ভয় পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আদালতপাড়া দখল কয়েসের রাজত্ব চলছে ৫ আগস্টের পর সিলেট আদালতপাড়া কার্যত কয়েসের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
শুধু নিলাম নয় কোন ব্যবসায়ী বিড করবে, কার নাম কেটে দেওয়া হবে, কত টাকা কার কাছে যাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে একটি স্পষ্ট অপরাধী চক্র।
কয়েসের সিন্ডিকেট ছাড়া সিলেটে এখন কোনো সরকারি নিলাম হয় না। আর নিলাম থেকে পাওয়া টাকার বড় অংশ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অর্থাৎ সিলেটে সরকারি সম্পদ এখন রাজনৈতিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের আয়-উৎস। দুদকে অভিযোগ বালুকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি
নিলামে অংশ নিতে না পারা ব্যবসায়ী মোঃ এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগে বলেছেন, এটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট। নিলামকে ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিণত করা হয়েছে। দুদক চাইলে এটি মুহূর্তেই বাংলাদেশের অন্যতম বড় দুর্নীতি মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
এই বালুকাণ্ড সিলেটে প্রশাসন ভেঙে পড়ার, রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
