সুরমা-কুশিয়ারায় পানির ঢল, সাদাপাথরে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

by Samir Khan

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরইমধ্যে কানাইঘাট, আমলসীদ, শেওলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ এই চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে কুশিয়ারা নদীর আমলসীদ পয়েন্টে পানি ছিল বিপদসীমার ১.৫৮ সেন্টিমিটার উপরে। শেওলায় ০.৩০ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জে ০.৫ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল কুশিয়ারার পানি।

এছাড়া অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে অনেক নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। উপশহর, রেলস্টেশন এলাকা, দক্ষিণ সুরমা, তালতলা, তপোবনসহ বহু এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। জেলার জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট এলাকায় টিলাধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ২টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের সদস্য। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস প্রথমে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে, পরে সকালে উদ্ধার করা হয় চতুর্থ মরদেহটি।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে ৪০৪.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ মৌসুমে সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ভারতের উজানেও ভারী বর্ষণ চলছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে একদিনে ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীতে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারার পানির স্তর বেড়েছে। আরও অন্তত দুই দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই, কারণ পরবর্তী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। পানি কমতে শুরু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সাদাপাথরে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যটক প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

রবিবার এক আদেশে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার জানান, টানা বর্ষণ ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পর্যটনকেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে পরবর্তীতে তা আবার খুলে দেওয়া হবে।

You may also like

Leave a Comment