বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ জামাল উদ্দিন, সিলেটঃ সিলেট মহানগর ও আশপাশের উপজেলায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সিএনজি চালিত অটোরিকশা। আর এই সিএনজি অটোরিকশাকে পুজি বানিয়ে গড়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রের মুখে করা হচ্ছে জিম্মি, ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার সহ মুল্যবান সম্পদ। বাদ যাচ্ছেনা খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। ফলে পুর্ব থেকে যাত্রীবেসে সিএনজি অটোরিকশায় ওৎ পেতে বসে থাকা ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠার পাশাপাশি আতংক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের আম্বরখানা-লামাকাজি, তেমুখী-শিবের বাজার, আম্বরখানা-সালুটিকর, টিলাগড়-বটেশ্বর সড়কে নিয়মিত ঘটছে সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী বেসে ছিনতাইয়ের ঘটনা। চালকদের সম্পৃক্ততায় সন্ধ্যার পর নগরের প্রধান সড়ক গুলোতে তিন-চার জনের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। চলন্ত অবস্থাতেই যাত্রীদের করা হয় টার্গেট। কৌশল হিসেবে বেচে নেয়া হয় একা থাকা যাত্রী এবং নিবন্ধন বিহীন সিএনজি অটোরিকশার ব্যবহার। কিছু বুজে ওটার আগেই ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে করা হয় জিম্মি। সব কিছু ছিনিয়ে সুবিধামত নির্জন স্থানে নামিয়ে পালিয়ে যায় নির্বিঘ্নে।
এরমধ্যে গত ০৮ জানুয়ারি নগরের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নাইওরপুল দারাজ অফিসের সামনে থেকে, পুলিশ সদস্য সাদেকুর রহমান এর গলায় ধারালো চাকু ধরে ভয়ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করার মাধ্যমে, দুই লক্ষ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটলে, পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে নগরের শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন বিআইডিসি এবং কল্যাণপুর এলাকা থেকে, ঘটনায় সম্পৃক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার উপজেলার তোফায়েল আহমদ। গেল বছরের ০১ সেপ্টেম্বর, নগরের আখালিয়া মাউন্ট এডোরা হাস্পাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর পর, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হাস্পাতালের সামন থেকে অজ্ঞাত নাম্বারের সিএনজি অটোরিকশা যোগে, নিজ জেলা সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, নগরের জালালাবাদ থানাধীন জাঙ্গাইল পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছালে, পুর্ব থেকে সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রীবেসে বসে থাকা ছিনতাইকারী সদস্যরা তার গলায় বুকে দারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের আইএমই নাম্বার উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত তিন-চারজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, ঐ মাসের ১২ তারিখ জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন তিনি। কিন্তু জালালাবাদ থানা পুলিশ সেই অভিযোগের কোন সুরাহা করতে পারেনি।
এদিকে অপরাধ সংঘবদ্ধ ঘটিত হলেও, তথ্য প্রমাণ দিতে না পারার অজুহাত দেখিয়ে থানা পুলিশ শুধু মোবাইল ফোন হারানোর জিডি করতে ভুক্তভোগীদের উৎসাহিত করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে থানা পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই নাকি মামলা-মোকদ্দমায় জড়াতে চাননা, সেজন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে অভিযোগ গুলো নথিভুক্ত করেন। এতে মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোন উদ্ধার হলেও প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিডিয়া (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত ), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীবেসে ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে, ছিনতাই এবং হারানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জিডি না করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রদানের পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
