নিজস্ব প্রতিনিধি,সিলেটঃ দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে সিলেটে চলমান পরিবহন ধর্মঘট দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা এলে স্বস্তি ফিরে আসে নগরবাসীর মাঝে। বৈঠকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে সেগুলো পাঠানোর আশ্বাস পাওয়ার পর আপাতত কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
মুখ্য দাবিগুলোর মধ্যে ছিল:
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী যানবাহনের ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল (বাস-মিনিবাসের জন্য ২০ বছর, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের জন্য ১৫ বছর),
সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু-পাথর উত্তোলনের অনুমতি,
বিআরটিএ’র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের প্রক্রিয়া বাতিল,গণপরিবহনে আরোপিত অতিরিক্ত ট্যাক্স প্রত্যাহার,বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্রাশার মিলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান,
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের প্রত্যাহার,পণ্যবাহী গাড়িচালকদের হয়রানি বন্ধ।
বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, “মানুষের কল্যাণই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। সারাদেশে যদি পাথর উত্তোলন হয়, তবে সিলেটেই বা কেন হবে না? প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়া হবে। আমরা সব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবো।
তিনি আরও জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে আবার একটি সীমিত পরিসরের বৈঠক আয়োজন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, “কমিশনার সাহেব আমাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমরা তাকে দুদিন সময় দিয়েছি। এরপর আবার আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।
উল্লেখ্য, বৈঠকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর জামায়াতের আমীর মো. ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
