মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া না হলে দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। তাই অবিলম্বে এর আইনি স্বীকৃতি দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
গত ৩ অক্টোবর মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আযাদ বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতির কাছে মৌলিক সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের আইনি স্বীকৃতি না দিলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে নাকি নতুন ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে।
মহেশখালী–কুতুবদিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানে বিশাল সমুদ্রসৈকত, লবণ-চিংড়ি চাষ, মৎস্যসম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইউরেনিয়ামের মতো মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণসহ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন এই দ্বীপ দুটি সিঙ্গাপুরকেও ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি দাবি জানান, গভীর সমুদ্র বন্দরে নিয়োজিত শ্রমিকের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ স্থানীয় জনগণ থেকে নিয়োগ দিতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ড. আযাদ আরও বলেন, “২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। তবেই দেশে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. সোহেল ও শাপলাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মনির। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু তাহের চৌধুরী, শামসুল আলম বাহাদুর, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের দক্ষিণের আমির মাস্টার শামিম ইকবাল, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, মাস্টার আনসারুল্লাহ হেলালী, নুরুল আমিন শান্তসহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।
