মোহাম্মদ সাগর,ছাগলনাইয়া প্রতিনিধিঃ ফেনী’র ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের আকাশ বাতাস যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল। ব্যাডমিন্টন কোর্টের চারপাশে জড়ো হওয়া মানুষের চোখেমুখে ভেসে উঠছিল স্মৃতি, আবেগ আর ভালোবাসার গভীর ছাপ। প্রিয় মানুষের নাম উচ্চারণ না করেও সবাই যেন তাঁকেই অনুভব করছিল। সেই আবেগের আবরণে, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক পরিবেশে উদ্বোধন করা হলো মরহুম মুন্সী আবুল কাশেম চেয়ারম্যান স্মৃতি গোল্ডকাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট–২০২৫ একজন মানুষের জন্য, যিনি আজ নেই, কিন্তু রয়ে গেছেন মানুষের অন্তরে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস. এম. সালাউদ্দিন মামুন। আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেন,
মরহুম মুন্সী আবুল কাশেম চেয়ারম্যান শুধু একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের সুখ–দুঃখের নির্ভরতার নাম। আজ তাঁর নামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট প্রমাণ করে মানুষ চলে যায়, কিন্তু মানুষের জন্য করা ভালোবাসার কাজ কখনো মরে না।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী। তিনি বলেন,
খেলাধুলার মাধ্যমে যুব সমাজকে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক করে গড়ে তোলাই ছিল মরহুম চেয়ারম্যানের স্বপ্ন। আজ মহামায়া সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরেকটি দৃঢ় পদক্ষেপ নিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম মিয়াজী নয়ন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোদাচ্ছের হোসেন আরিফ, সাবেক সহ-সভাপতি, ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদল; ওমর ফারুক বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদল; এবং মুন্সী আবদুল কাইয়ুম মেম্বার, যুগ্ম আহ্বায়ক, মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাদিম উদ্দিন নাদিম। তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট কেবল একটি খেলার আয়োজন নয় এটি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ, এটি ভালোবাসার এক নীরব স্বীকারোক্তি। মরহুম মুন্সী আবুল কাশেম চেয়ারম্যান আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায়।
উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় মোমিন ইলেকট্রনিক বনাম প্রবাসী জুটি। খেলা শুরু হতেই করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। যেন প্রতিটি শট, প্রতিটি পয়েন্টে নীরবে উচ্চারিত হচ্ছিল একটি নাম মুন্সী আবুল কাশেম। খেলাধুলার মাধ্যমে স্মৃতির প্রতি এমন গভীর শ্রদ্ধা মহামায়া ইউনিয়নের মানুষকে আবারও এক সুতোয় বেঁধে দিল।
এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয় এটি একজন ভালো মানুষের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব অঙ্গীকার, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভালোবাসার গল্প হয়ে বয়ে চলবে।
