ফেনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শিবির নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি

by The Justice Bangla

ফেনী প্রতিনিধিঃ মানব icide মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শিবির কর্মী মামুন হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মামুনুল হককে ফেনী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার আদেশের কপি Facebook–সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফেনীজুড়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি Chittagong University ক্যাম্পাসে শিবির কর্মী মামুন হোসেনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মো. মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসজুড়ে সশস্ত্র সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। মামলার এজাহারে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ থাকা অভিযুক্তরা হলেন সশস্ত্র ছাত্রলীগ ক্যাডার হাবিবুর রহমান রবিন, জালাল আহমেদ, রূপম বিশ্বাস, বোরহান উদ্দিন, বায়েজিদ সজল, এস এম আরিফুল ইসলাম, মনসুর সিকদার, সৌমেন পালিত ও অমিত কুমার বসুসহ একাধিক ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বগিভিত্তিক সাতটি সশস্ত্র ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বও ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস সূত্রের বরাতে অভিযোগ ওঠে যে, মামুনুল ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় হল দখল, অস্ত্রবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তৎকালীন ভিসি আনোয়ারুল আজিম আরিফের বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ বাণিজ্যের অংশীদার হিসেবেও তাঁর নাম আলোচিত ছিল। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগে ‘তাঁকে ম্যানেজ’ করলেই সুযোগ মিলত এমন অভিযোগও বিভিন্ন মহলে প্রচলিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক তদবির ও প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতায় তিনি ৩৬তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। পরে ঢাকার রমনা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি), রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর প্রটোকল কর্মকর্তা এবং Bilaichhari Upazila–এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

রায়ের পর আসামিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার চিত্র আইনি সূত্র জানায়, এত বড় হত্যামামলার আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ ২০ নভেম্বর মামলার ৫ নম্বর আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল মনসুর সিকদার–কে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে বহাল তবিয়তে সরকারি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার ফোন ও যোগাযোগমাধ্যমে চেষ্টা করেও মো. মামুনুল হকের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন

আমি ব্যক্তি মামুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই চেনেন। আমি খারাপ কিছু করেছি কিনা, যাচাই করুন। ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। তবে কারও ক্ষতি করিনি, কোনো অপকর্মে ছিলাম না। রাজনীতি ছেড়ে আট বছর ধরে চাকরি করছি।

ফেনীর নাগরিক সমাজ ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, গুরুতর ফৌজদারি মামলার প্রধান অভিযুক্তকে পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া ‘ন্যায়বিচার ও জনআস্থার পরিপন্থী’। তাঁরা অবিলম্বে এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

You may also like

Leave a Comment