নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাউজান সরকারি কলেজের এইচএসসি পড়ুয়া মো. শাহারিয়ার হাসান আলভী। তিনি গহিরা মাইজপাড়া আলী চৌধুরী বাড়ির মরহুম নুরুল আবছার ও শাহেদা আক্তারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। পরিবারের স্বপ্নের প্রতীক আলভীর অকাল মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলেছে এলাকায়।
গতকাল সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গা ভ্রমণে বের হয়েছিলেন শাহারিয়ার। তার সঙ্গী ছিলেন দুই বন্ধু, মো. জোনায়েদ এবং মো. আলিফ। ভ্রমণ শেষে রাতে ফেরার পথে তাদের মোটরসাইকেল একটি বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কা লেগে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহারিয়ার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্য দুই বন্ধু জোনায়েদ ও আলিফ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান। তারা বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জোনায়েদ বলেন, “আমার বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য অনেকক্ষণ চেষ্টা করেছি। পরে একটি সিএনজি নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা শাহারিয়ারকে বাঁচাতে পারিনি।”
মেধাবী শিক্ষার্থী শাহারিয়ারের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা বলছেন, শাহারিয়ার ছিলেন এক প্রতিভাবান ও উদ্যমী তরুণ, যার সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল সড়ক নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল গাড়ি চালনার গুরুত্ব। আলভীর মৃত্যু সবার মনে একটাই প্রশ্ন জাগাচ্ছে: আমাদের সড়কগুলো কতটা নিরাপদ?
এক সন্ধ্যা যা তিন বন্ধুর জন্য প্রাণোচ্ছল আনন্দময় হওয়ার কথা ছিল, সেটি হয়ে গেল এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।
