নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তিনটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সারা দেশে জ্বালানি তেল বিপণনের দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠান তিনটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও এর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মেঘনা পেট্রোলিয়াম বর্তমানে নাজুক অবস্থায় পড়েছে। বিশেষ করে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন্স) অঃ দাঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বাণিজ্য, ডিপো থেকে মাসিক চাঁদা আদায়, মামলা পরিচালনার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাতের মতো নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কোম্পানির গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ভাড়ায় ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত এক যুগে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর অপারেশন ইনচার্জ (ওসি) এবং পরবর্তী তিন বছর এজিএম (এমআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ে সরকারি তেল আত্মসাৎ ও অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর এলাকায় তার শত বিঘা জমির ওপর মাছের পুকুর রয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হয় বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন ডিপো থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করা হতো এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গোপনে পরিচালিত হতো। তবে নিরাপত্তার কারণে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
এদিকে কোম্পানির ভেতরে অভিযোগ উঠলেও অতীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে কয়েকবার তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের এক উপ-পরিচালক জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বা প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে যদি তার সম্পদের পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সেটি দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
