জাস্টিস বাংলা ডেস্কঃ ওয়াশিংটন-আবুজা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা’ চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ‘উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদকে মাথাচাড়া দিতে দেবে না’।
ট্রাম্প আইএসকে ‘সন্ত্রাসী আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী একাধিক ‘নিখুঁত হামলা’ পরিচালনা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) জানায়, নাইজেরিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে সোকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগার বিবিসিকে বলেন, এটি ছিল ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি যৌথ অভিযান, যার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পর্ক নেই।
ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তা দুই দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নাইজেরিয়ান সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থা বলছে, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের মুসলমানদের তুলনায় বেশি হত্যা করা হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। দেশটির জনসংখ্যায় মুসলমান ও খ্রিস্টান প্রায় সমান।
উল্লেখ্য, বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী এক দশকের বেশি সময় ধরে নাইজেরিয়ায় সহিংসতা চালিয়ে আসছে। এসব সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হলেও, তাদের অধিকাংশই মুসলমান বলে জানিয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলো।