আশফাক আহমদ | মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা–জুড়ী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে মানুষ জুলুমের শিকার হয়েছে, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে জাতির সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বড়লেখা উপজেলার ১০ নং দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চা শ্রমিকদের জীবনমান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, বাগান পরিদর্শনে গিয়ে তাদের দুর্দশা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এখনও কেন তারা বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকবে? কেন তাদের বাসস্থান অনুপযোগী থাকবে? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ১৮৪ টাকা দৈনিক মজুরিতে বর্তমান বাজারে তারা কীভাবে সংসার চালাবে? কেন তাদের মজুরি ৫০০ টাকার বেশি করা হবে না?
তিনি আরও বলেন, ধনী–গরিবের বৈষম্য দূর করতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা হবে।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৩৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলছি আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে বড়লেখা ও জুড়ীর প্রতিটি এলাকায়, বিশেষ করে দক্ষিণভাগ ইউনিয়নে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেব।” তিনি তার পিতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমার আব্বা সুজানগর ইউনিয়নের জনপ্রিয় ও ন্যায়পরায়ণ চেয়ারম্যান ছিলেন; আমিও সততার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাব।
১০ নং দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছাব্বির আহমদ টিপু, জামায়াত নেতা খিজির আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আহমদ, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমরান আহমদ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সাবেক কর্মপরিষদ সদস্য জালাল আহমদ চৌধুরী, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ফয়সাল আহমেদ, এনসিপি নেতা তামিম আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম আজিজ কিবরিয়া, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম এবং চা শ্রমিক প্রতিনিধি শিরিশ দাসসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
সমাবেশে বক্তারা আগামী নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট এবং গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
