নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক জনাব মুহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব জনাব মুহাম্মদ নাজিমুর রহমানের যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে আরোপিত প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং ২৬/১০/২০২৫ তারিখে স্মারক নং–১৮.০৪.০০০০.১৮২.২৭.১২৫.২০১৪/৩৫৫ অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও তিনটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠনসমূহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর প্রেক্ষিতে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের কারণে দোহাই দিয়ে শোকজ নোটিশ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে যা সংবিধানের ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের অধীনে সংগঠন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)-এর ধারা ১৭৯, ১৮০ ও ১৮১-এর লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি কোনো প্রতিরক্ষা সংস্থা নয়। তাই এখানে কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নে অংশগ্রহণ বা সংগঠিত হওয়ার অধিকার সীমাবদ্ধ করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। প্রশাসনিক নিপীড়ন কর্মচারীদের ন্যায্য ধাবিসমূহ আদায়কে দমিয়ে সরকারের ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি নিম্নলিখিত দাবি জানিয়েছে
১. চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।
২. কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আরোপিত সকল শোকজ (শোকজ নোটিশ) প্রত্যাহার করা হোক।
৩. দেশে কোনো জরুরি অবস্থা না থাকা সত্ত্বেও সংবিধান ও শ্রম আইনের আলোকে কর্মচারীদের সংগঠন ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
বিবৃতিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বন্দর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেয়া এসব পদক্ষেপ বন্দরকে বিদেশীদের হাতে হস্তান্তরের প্রাক-প্রস্তুতি এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে এমন কোনো জাতীয় বা জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ইখতিয়ার অনির্বাচিত সরকারের নেই এবং এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি জানান দিয়েছে, যদি বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের পদক্ষেপ থেকে সরে না আসে, তারা চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষের অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
