আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে ডেনমার্ক যে অবস্থান নিয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইউরোপীয় নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নতুন বক্তব্য সামনে এসেছে।
এর আগে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানায়, দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে আলোচনা করতে তারা দ্রুত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে চায়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ‘কিছু ভুল বোঝাবুঝি’ দূর হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। মিসৌরি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিট মঙ্গলবার বিবিসিকে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা এখন কেবল আলোচনা করছে। আমার আশা, ইউরোপ বুঝতে পারবে যে একটি শক্তিশালী আমেরিকা ভালো এটি পশ্চিমা সভ্যতার জন্য মঙ্গলজনক।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই গ্রিনল্যান্ডকে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে দখলের ধারণা সামনে এনেছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি দ্বীপটিকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘একটি বিশাল রিয়েল এস্টেট চুক্তি’ হিসেবে।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে রাশিয়া ও চীনের আগ্রহও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। দ্বীপটিতে অনাবিষ্কৃত বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় নতুন বাণিজ্যিক নৌপথের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
গত মার্চে ট্রাম্প বলেন, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পেতে যুক্তরাষ্ট্র ‘যতদূর যাওয়া প্রয়োজন, ততদূর যাবে’। গত গ্রীষ্মে কংগ্রেসের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো পরিকল্পনা পেন্টাগনের আছে কি না। জবাবে তিনি জানান, পেন্টাগন ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা করে রাখে’।
প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পক্ষে, জনমত জরিপে দেখা গেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ঘোর বিরোধী।
গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইলুলিসাটের বাসিন্দা, ইনুইট সম্প্রদায়ের ২৭ বছর বয়সী মরগান আনগাজু বিবিসিকে বলেন,
‘বিশ্বের প্রভাবশালী নেতার মুখে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে উপহাস এবং আমাদের এমনভাবে বর্ণনা করা যেন আমরা দখল করার মতো কোনো বস্তু এসব শোনা ছিল সত্যিই আতঙ্কের।
