গোয়াইনঘাটে তাজ সিন্ডিকেটের বালু-পাথর লুট নিরব পুলিশ

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেটঃ সিলেটের সর্বত্র অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনে সম্প্রতি নিষেধাজ জারি করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক সারওয়ার আহমেদ। সেই নিষেধাজ্ঞার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সদর ইউপি মেম্বার তাজ উদ্দিন সিন্ডিকেট।

এই সিন্ডিকেট প্রত্যহ দিন-রাতে শতশত নৌকাযোগে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সদর ইউনিয়নের খৈনা গাং, বালির হাওর, এবং লাঠি গাং সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বালু লুটপাট করছে।

এই বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় নদী ও ফসলি জমি ও লুনি গ্ৰামের খেলার মাঠসহ হুমকির মুখে পড়ছে নদী পাড়ের শত শত বিঘা ফসলী জমি ও বাড়িঘর। বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান- আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি তাজউদ্দীন মেম্বার থানা পুলিশের সদর বিট অফিসার এসআই ফারুকুলকে ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি করছেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে থানা পুলিশের এসআই ফারুকুল তাজউদ্দিন সিন্ডিকের সাথে অঘোষিত পার্টনার হয়ে বালু লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছন।

ফলে উপজেলার প্রশাসন অভিযানে আসার আগেই প্রতিনিয়ত এসআই ফারুকুল ফোন করে জানিয়ে দেন ‘আমরা অভিযানে আসছি, তোমরা সরে যাও’। তাই রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় এবং সাধারণ শ্রমিক দের আটক করে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু লুট ও বিক্রির টাকার ভাগ পেয়ে থাকেন থানার ওসি ও ইউএনও, রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। আর ধ্বংস হচ্ছে গোয়াইনঘাটের নদীর প্রতিবেশ।

এদিকে, সিলেটের কোম্পানীগন্জে সাদাপাথর লুটের ঘটনায় যখন সারাদেশে চলছে তোলপাড়। লুটকারীদের সনাক্ত করতে গঠিত হয়েয়ছে একাধিক তদন্ত কমিটি।সাদা পাথর লুটের ঘটনায় বদলি করা হয়েছে ওসি-ইউএনসহ সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসককে।

একই ভাবে জেলার আরেকটি পাথর কোয়ারী গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ১১নং মধ্যে জাফলং,২নং পশ্চিম জাফলং ১ নং রুস্তমপুর ও ১৩ বিছানাকান্দি পাথর কোয়ারীর ইসিও এলাকায়সহ বিভিন্ন নদ-নদী থেকে পাথর লুটসহ অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় থানা থেকে বদলী করা হয়েছে ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ সহ কয়েকজন এসআইকে, যারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পরে গোয়াইনঘাট থানায় নতুন ওসি পদে যোগ দিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশে কর্মরত ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও বিট এলাকায় বন্টন করে দিয়েছেন নতুন বিট অফিসারদের। এদের একজন সদর বিট অফিসার এসআই ফারুকুল।

প্রতিদিন জাফলং জিরো পয়েন্টে পাথর লুট এলাকায় নজদারী করছেন স্থানীয় প্রশাসন। তবুও থেমে নেই গোয়াইনঘাটের নদ-নদী থেকে বালু লুটপাট।

দায়িত্ব পেয়েই পুলিশের নতুন বিট অফিসাররা সরাসরি জড়িয়ে পড়ছেন অবৈধ বালু উত্তোলনসহ চোরাকারবারের সাথে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর উত্তর প্রতাপপুর পিয়াইন নদী থেকে চলছে অবৈধ ভাবে বালু লুটের ঘটনা। দীর্ঘ ১মাস থেকে সরকারী কোন ইজারা ছাড়াই একটি সিন্ডিকেট মিলে প্রতিদিন ও রাতে প্রায় কয়েক লাখ ঘনফুট বালু লুট করে নিচ্ছেন।

যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে, ১২নং সদর ইউনিয়নের লুনি গ্ৰাম এলাকায় ইজারা বহির্ভূত বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ১৪ জন শ্রমিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ- ডাউকির মুখ থেকে পশ্চিম দিকে সংগ্রামপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি, নকশিয়াপুঞ্জি, প্রতাপপুর পুঞ্জি, হাজিপুর বাজার, লাঠি, কালিজুড়ি, লাবু, পরগনা, আহারকান্দি, আমবাড়ি, পর্ণগ্রাম, মনরতল, বগলকান্দি, বুজারকান্দি, মনইকান্দি, ইসলামাবাদ, মুরামুরিখাল, পান্থুমাই, বাবুরকোনা পর্যন্ত এর ভিতরে আরও প্রায় ২৫ কিলোমিটার ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এসব বালু মহাল থেকে গেল দুই বছরে ১৫ কোটি টাকার বালু লুট করে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তরিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক সাংবাদিককে বলেন, এ অভিযোগের বিষয়ে জানা নেই, তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো এবং সত্যা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই ব্যাপারে জানতে সদর বিট অফিসার এস আই ফারুকুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা বলে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকবে, ভাল করলেও থাকবে, মন্দ করলেও থাকবে। তাই করার কিছু নেই।

এ বিষয়ে জানতে তাজউদ্দীন মেম্বারের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন রিসিভ না করেন নি।

You may also like

Leave a Comment