নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উপমহাদেশের দীর্ঘ ক্লান্ত ইতিহাসে এক অনন্য রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের প্রতীক ও আপোষহীন নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে মনে করেন তার অনুসারীরা।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক ব্যক্তিগত শোকের মুখোমুখি হয়েছেন। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জীবনসঙ্গী ও দুই সন্তানকে হারানোর বেদনাও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তার দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অপবাদ ও নেতিবাচক প্রচারণার অভিযোগ উঠলেও তিনি শালীনতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে সংবাদ সম্মেলন, সভা ও আলোচনায় উল্লেখ করে থাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্ব।
নেতারা বলেন, তার নেতৃত্বে দল শিখরের চূড়ায় পৌঁছালেও সেই নেতৃত্বের সমান দৃঢ় বিকল্প উত্তরসূরি দলে তৈরি না হওয়াটাই তার রাজনৈতিক অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, জীবনের কোনো এক অধ্যায়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করলেও, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই অধ্যায় অপূর্ণ থেকে গেছে।
সমর্থকদের ভাষ্য খালেদা জিয়ার বিদায় একদিন ঘটলেও, সেটি কোনো সাধারণ বিদায় হবে না; তার সংগ্রাম, আপোষহীনতা ও নেতৃত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার জীবনের এই সংগ্রাম ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা থামেনি, বরং সময়ের সঙ্গে নতুন করে তাৎপর্য পাচ্ছে যা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।