মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজারঃ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ভাঙন দেখা দিয়েছে। যা একটি গুরুতর সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। , যা পর্যটন এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির কারণে ভাঙন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ।
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সৈকতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি ও বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
গেল একদশক ধরে কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট একাধিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জিও ব্যাগ স্থাপন করলেও তা কাজেই আসছে না। লোক দেখানো জিও ব্যাগ দিলেও ভাংগন রোদ করা যাচ্নছে না।নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে উজাড় হচ্ছে ঝাউগাছ।
সৈকতের লাবণি বিচ, নাজিরারটেক থেকে মেরিন ড্রাইভে বিভিন্ন অংশে নতুন করে দেখা দিয়েছে এই ভাঙন। উত্তাল সমুদ্রে ঢেউ ও জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এক সপ্তাহে ভেঙে পড়ছে কয়েক হাজার ঝাউগাছ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই হচ্ছে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঝাউগাছ। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিও তাদের।
সরেজমিনে সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় বেড়ে তীরে আছড়ে পড়ছে। প্রচণ্ড ঢেউয়ে জিও ব্যাগগুলোর অধিকাংশই ছিঁড়ে গেছে। জিও ব্যাগ ছাড়িয়ে একে একে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ।
পাউবোর বিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে লাবণি পয়েন্ট পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করা হবে। এ প্রকল্প হলে ভাঙন রোধের পাশাপাশি ঝাউবন ও বালিয়াড়ি রক্ষা পাবে।
গেলো এক মাসে বড় আকারের প্রায় আড়াই শ এবং কয়েক হাজার ছোট ঝাউ চারা উপড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
১৯৬১-৬২ সালে সৈকতের নাজিরারটেক থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত ১২ হেক্টর বালিয়াড়িতে প্রথম ঝাউগাছের চারা রোপণ করে বনবিভাগ। এরপর ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ঝাউ বাগানের আয়তন বাড়ানো হয়। ১৯৭২-৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক হাসপাতাল, লাবণী, কলাতলী, উখিয়ার ইনানী, সোনাপাড়া, টেকনাফের বাহারছড়া, মহেশখালীয়াপাড়া, সাবরাং উপকূলের প্রায় ৫০০ হেক্টর বালিয়াড়িতে সাড়ে ১২ লাখ ঝাউগাছের চারা রোপণ করা হয়।
গত ১০ বছরে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৭ লাখের বেশি ঝাউগাছ।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভাঙন, নষ্ট হচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্য বাড়ছে জন দুর্ভোগ
297
