এই প্রথম দিল্লির অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

ক্যামেরার সামনে আসার প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগ

by The Justice Bangla

জাস্টিস বাংলা ডেস্কঃ দিল্লিতে অবস্থান করলেও গত দেড় বছরে ভারতের কোনো অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে হাজির হননি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে আগামী শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এ অনুষ্ঠানে তাঁকে ক্যামেরার সামনে আসতে দেখতে চায় দলীয় নেতাকর্মীরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও সিগন্যালসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘দায়মুক্তি’তেও তিনি অংশ নেন। তবে এসব যোগাযোগে তিনি কখনোই ক্যামেরার সামনে আসেননি।

দিল্লিতে থাকলেও এতদিন ভারতের কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁকে ভার্চুয়ালি দেখা যায়নি। এবার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রেসক্লাবসের উদ্যোগে দিল্লিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আমন্ত্রণপত্রে তাঁকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেত্রীর ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি দলের মনোবল চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রত্যাশার কথা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো হলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। তবে দলীয় সূত্রে আশা করা হচ্ছে, ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার প্রথমবারের মতো তাঁকে ক্যামেরার সামনে দেখা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র বিতরণ শুরু হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে—ঢাকার পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটি নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে। এর আগে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সাংবাদিক সম্মেলন শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছিল, যা নিয়ে তখন কূটনৈতিক আপত্তির কথা শোনা যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণা করেছে। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে তাঁর ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেবেন হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ড. এ কে আব্দুল মোমেন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও একাডেমিক ব্যক্তিত্বরা।

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিল্লির এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

You may also like

Leave a Comment