উদ্বোধনের ছয় মাসেও স্মৃতিফলক নেই, উল্টো ভরাটের উদ্যোগ রুদ্র সেন লেক ঘিরে প্রশ্ন

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেটঃ জুলাই আন্দোলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রথম নিহত এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের স্মৃতি ধরে রাখতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জলাধারটি আজ নানা প্রশ্নের মুখে। ‘রুদ্র সেন লেক’ নামে পরিচিত এ জলাধার উদ্বোধনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেখানে তার স্মরণে কোনো স্মৃতিফলক বা নামফলক স্থাপন করা হয়নি। বরং লেকের একটি অংশ ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে পরিবেশ ও স্মৃতির প্রতি অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জলাধারের পাড় কিংবা আশপাশে কোথাও রুদ্র সেনের পরিচয় বা তার আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরার মতো কোনো চিহ্ন নেই। লেকের মাঝখানে কেবল ‘সাস্ট’ লেখা একটি নামফলক রয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের কাছে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাধারণ দর্শনীয় স্থান হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছে, যা একজন শহীদ শিক্ষার্থীর স্মৃতিকে আড়াল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পরিবর্তে এর কিছু অংশ ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাধারের অংশ ভরাট হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে। গ্যারেজ নির্মিত হলে গাড়ি ধোয়ার পানি ও বর্জ্য লেকের পানিতে মিশে জলজ প্রাণী ও ইকোসিস্টেমের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা হবিগঞ্জের পর্যটক আকাশ আহমেদ বলেন, লেকটি দেখতে সুন্দর, কিন্তু এটি যে জুলাই আন্দোলনে নিহত একজন নায়কের নামে তা জানতাম না। প্রশাসনের উচিত ছিল এমন স্মৃতিচিহ্ন রাখা, যাতে সবাই তার আত্মত্যাগের কথা জানতে পারে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক নুরুজ্জামানও একই মত প্রকাশ করে বলেন, এটি শুধু একটি লেক নয়, এটি ইতিহাসের অংশ হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনে শাবিপ্রবির প্রথম আহত দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, রুদ্র সেন সিলেট বিভাগের প্রথম এবং শাবিপ্রবির একমাত্র জুলাইয়ে নিহত যোদ্ধা। তাকে যেভাবে সম্মান ও স্মরণ করা প্রয়োজন ছিল, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হয়নি। এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকে তাকিয়ে এখন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

You may also like

Leave a Comment