জাস্টিস বাংলা | প্রতিবেদন ঢাকা ১২ ফেব্রুয়ারিঃ আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন এবং প্রথমবারের মতো ব্যালটে থাকছে না আওয়ামী লীগ। দ্যা জাস্টিস বাংলার অনুসন্ধান, সাম্প্রতিক জরিপ, আসনভিত্তিক হিসাব ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয় পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে জয়ী কে হবে এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জয়ের ব্যবধান কত হবে। সেই ব্যবধান নির্ভর করছে তিনটি নির্ণায়ক বিষয়ের ওপর।
জরিপের সামগ্রিক চিত্র
হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের জরিপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বিএনপিকে এগিয়ে দেখা গেছে। ব্যবধান একেক জরিপে একেক রকম হলেও সাধারণ প্রবণতা হলো বিএনপির সমর্থন সারা দেশে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত, যেখানে জামায়াতের সমর্থন বেশি আঞ্চলিকভাবে কেন্দ্রীভূত।
আওয়ামী লীগের ভোট কার দিকে?
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আনুমানিক ৪ কোটি ভোটারের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছে। বিভিন্ন জরিপ ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক ভোটার
বিএনপির দিকে ঝুঁকছে
প্রায় ৩০ শতাংশ ইসলামপন্থী দলের দিকে যেতে পারে
বাকি অংশ ভোটকেন্দ্রে না-ও যেতে পারে
এই ভোট পুনর্বিন্যাস বিএনপির আসন বাড়াতে পারে।
FPTP ব্যবস্থার প্রভাব
বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীই জয়ী হন। ফলে
সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ভোট (বিএনপি) আসন জয়ে সুবিধা পায়
নির্দিষ্ট অঞ্চলে শক্তিশালী ভোট (জামায়াত) আসনে কম প্রতিফলিত হতে পারে
ফল নির্ধারণ করবে তিন সমীকরণ
১) বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী:
৭৯টি আসনে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে বিএনপি ১৫–৩০টি আসন হারাতে পারে।
২) তরুণ ভোটার উপস্থিতি:
মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ তরুণ। তারা বেশি ভোট দিলে জামায়াত লাভবান হতে পারে; কম এলে বিএনপির সুবিধা বাড়বে।
৩) দোদুল্যমান ভোটার:
১৫–৩৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। তাদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ফল পাল্টে দিতে পারে।
সম্ভাব্য আসন চিত্র (৩০০ আসন)
বিএনপি ও জোট: ১৭৫ ২০০
জামায়াত ও এনসিপি: ৬০–৯০
জাতীয় পার্টি: ৫–১৫
অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১৫–২৫
দ্যা জাস্টিস বাংলার পর্যবেক্ষণ
সব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় আগামীকালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী, তরুণ ভোটার উপস্থিতি ও দোদুল্যমান ভোটার এই তিন নিয়ামকই চূড়ান্ত ব্যবধান নির্ধারণ করবে।
১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আগামীকাল যে রায় দেবেন, তা আগামী এক প্রজন্মের রাজনীতির দিকনির্দেশ ঠিক করবে।
কে হবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী….?
দ্যা জাস্টিস বাংলা।
