নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় রক্ষিত দুটি লকার ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসরণ করে দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে অবস্থিত ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার খুলে মোট ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
সিআইসির কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে বলছেন, এটি ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের চেয়ে অনেক বেশি যা ক্ষমতার সময়কার অপ্রকাশিত সম্পদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিন পূবালী ব্যাংকের একটি শাখায় শেখ হাসিনার নামে থাকা আরেকটি লকারও খোলা হয়।
তবে সেখানে কোনো স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়নি; লকারটিতে ছিল শুধুমাত্র একটি পাটের বস্তা। লকার খালি করা হয়েছে কি না বা কোনো তথ্য গোপনের চেষ্টা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।
কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ সঞ্চয় এবং সম্পদের উৎস গোপনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লকার জব্দের সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআরের সিআইসি। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকারও জব্দ করা হয়।
অগ্রণী ও পূবালী ব্যাংকে থাকা শেখ হাসিনার নামে মোট তিনটি লকার এখন এনবিআরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যেগুলো থেকে উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও নথিপত্র বিশদভাবে পরীক্ষা করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ও লকারের ব্যবহার প্যাটার্ন থেকে বৃহত্তর অবৈধ সম্পদ সংরক্ষণ নেটওয়ার্ক এর অস্তিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
